শুক্রবার মেলবোর্নে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মাশরাফি বিন মুর্তজাদের
সংবর্ধনা দেয়। অনুষ্ঠান চলাকালেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি
নাজমুল হাসানের মোবাইলে ফোন করে দলকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে লাউড স্পিকার দিয়ে ফোনটি
মাইক্রোফোনের সামনে রাখেন নাজমুল। মাশরাফিদের ভালো খেলা উপহার দেওয়ার
প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ফোনে বলেন, “আম্পায়ার যদি ডিস্টার্ব না করত, হয়ত
আমরা জিতেই যেতে পারতাম। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জিতবে। বাংলাদেশ
একদিন ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হবে।”
খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আশা করি, আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের এই পারফরম্যান্স ধরে রাখবে।”
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মন খারাপ না করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
“আমাদের
ক্রিকেট দলের সদস্যদের বলি, মন খারাপ করার কিছু নেই। আমাদেরকে যেভাবে
হারানো হলো, তা সবাই দেখেছে। ভবিষ্যতে আমরা অবশ্যই জিতব।”
গত
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের
কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের কাছে ১০৯ রানে হারে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করতে
নামা ভারতের ইনিংসের ৪০তম ওভারে ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তটি দেন আম্পায়ার আলিম
দার ও ইয়ান গৌল্ড।
ওভারের চতুর্থ বলটি ফুলটস দিয়েছিলেন রুবেল হোসেন।
বলটিতে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ইমরুল কায়েসকে ক্যাচ দেন
ভারতের রোহিত শর্মা। তবে পাকিস্তানের আম্পায়ার দার বোলিং প্রান্তে থাকা
ইংল্যান্ডের আম্পায়ার গৌল্ডকে বলটি কোমরের ওপরে ছিল বলে সংকেত দেন। গৌল্ড
তখন ‘নো’ ডাকলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
আম্পায়ারদের
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে ক্রিকেট পণ্ডিতদের অনেকেই সমালোচনা করেন। ক্ষোভে
ফেটে পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। আইসিসি সভাপতি মুস্তফা কামালও
বাংলাদেশের হারের জন্য আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণকেই দায়ী করেন।
মেলবোর্ন
শহরতলীর এক মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েকশ’ প্রবাসী ছিলেন।
প্রবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ফেরদৌস আরা পারভিন ও নিরুপমা। কয়েকটি শিশুও
সেখানে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেয়।
বাংলাদেশ দলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
বিসিবি সভাপতি বলেন, “আইসিসির কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন, এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে দেখে তারা চমকে উঠেছেন।”
মাশরাফি
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "এই দেশে বারবার
পায়ের অপারেশন করাতে আসতাম, খুঁড়িয়ে হাঁটতাম। এবার মাথা উঁচু করে খেলে
গেলাম।”
এই সফরে প্রবাসীরা দলকে যে সমর্থন দিয়েছেন তা কখনো ভুলবেন না বলে জানান মাশরাফি।
অনুষ্ঠানে প্রিয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তোলেন প্রবাসীরা।
0 comments:
Post a Comment